বাংলাস্ফিয়ার: ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলায় শনিবার সকালে রেললাইন থেকে ভিন্নধর্মী এক তরুণ ও এক তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। কী পরিস্থিতিতে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মৃতেরা হলেন রকি কুমার মণ্ডল (২০) এবং নাজিয়া খাতুন (১৮)। দু’জনেই করমাটাঁড় থানার অন্তর্গত রিংগোচিঙ্গো গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় রেলের জলের ট্যাঙ্কের কাছে তাঁদের দেহ পাওয়া যায়।
করমাটাঁড় থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অলখ নাথ চৌবে জানান, কয়েক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মেলায় যাওয়ার জন্য তাঁরা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন।
ওই পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তাঁরা একটি মন্দিরে যান। ইনস্টাগ্রামে রকির পোস্ট করা বলে দাবি করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নীল কাপড় দিয়ে দু’জনের একটি করে হাত একসঙ্গে বাঁধা। পোস্টটির সঙ্গে গ্রামবাসীদের উদ্দেশে তাঁদের আলাদা না করার আবেদনও রয়েছে।
চৌবে জানান, পোস্টটির সঙ্গে থাকা বার্তায় লেখা হয়েছে, “আমি এখনই গ্রামের সকলকে বলছি, আমাদের এই বন্ধন কখনও আলাদা কোরো না। আমাদের যেখানেই কবর দাও বা যা-ই করো, একসঙ্গে কোরো।”
ইনস্পেক্টর চৌবে বলেন, “কী পরিস্থিতিতে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁরা আইনগতভাবে বিয়ে করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে সমাজমাধ্যমে একটি ছবি দেখে মনে হচ্ছে, তরুণ হয়তো তরুণীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছিলেন।”
ওই আধিকারিক জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে। দেহ দু’টি তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
রিংগোচিঙ্গো গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দু’জনের পরিবারই তাঁদের সম্পর্কের বিরোধী ছিল। প্রায় দু’বছর আগে এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যেরা একটি বৈঠক করেছিলেন। তাঁর দাবি, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দু’জনের বিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু তাঁদের পরিবার সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।
ওই গ্রামবাসী বলেন, “এর পরে গ্রামবাসীরা দুই পরিবারকে বলেন, ওঁরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তার পরের বছর নাজিয়ার সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির বিয়ে হয়।